Welcome to Zila Parishad, Noakhali, Phone : 0321 – 61510,   Fax : 0321-61848, Postal Code : 3800, Email : ceozpnoakhali@gmail.comBangladesh.

Zilla Parishad History

জেলা পরিষদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

           বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে অতি প্রাচীন ও জনসমাদৃত প্রতিষ্ঠান হলো “জেলা পরিষদ”। ১৮৮৫ সালে “লোকাল সেলফ গভর্ণমেন্ট এ্যাক্ট” অনুযায়ী “জেলা বোর্ড” নামে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। পাকিস্তান শাসন আমলে ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ অনুযায়ী জেলা বোর্ডের নাম “ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল” করা হয়। সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে জেলা পরিষদ আইন এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ আইন-২০০০ প্রণীত হয়েছে এবং এ আইন অনুযায়ী বর্তমানে ৩টি পার্বত্য জেলা ব্যতিত ৬১টি জেলায় জেলা পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে।

           সংবিধানের ৯,১১,৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থানীয় শাসনের কথা বলা হয়েছে। আমাদের দেশে দু’ ধরনের স্থানীয় শাসন রয়েছে। একটি শহর কেন্দ্রিক স্থানীয় শাসন ও আরেকটি গ্রাম কেন্দ্রিক স্থানীয় শাসন। গ্রামীন স্থানীয় শাসনে ৩টি স্তর রয়েছে। ৩টি স্তরের মধ্যে নেতৃস্থানীয় স্তর হলো জেলা পরিষদ।

           জেলা পরিষদের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী জেলা পরিষদ আইন-২০০০ এর ধারা ৭৩ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকুরী বিধিমালা,১৯৯০ অনুসারে সরকার কর্তৃক প্রেষণে ও পরিষদ কর্তৃক নিয়োগকৃত জনবল দ্বারা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের উপ সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে , সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা সচিব পদে, এলজিইডি হতে একজন সহকারী প্রকৌশলী ও একজন উপ সহকারী প্রকৌশলী (প্রেষণে) দায়িত্ব পালন করে থাকে। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বিবেচনায় এনে জেলা পরিষদ আইন-২০০০ এর ৮২(১) ধারা মোতাবেক ৬১ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে জেলা পরিষদে “প্রশাসক” পদে নিয়োগ করেন।

       জেলা পরিষদ সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে পরিচালিত স্থানীয় সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান। এর আয়ের সিংহভাগ আসে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর হতে যা ডিসি ট্যাক্স নামে পরিচিত। এছাড়াও জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমির ইজারা ফি, যাত্রী ছাউনী সংলগ্ন দোকান, ডাকবাংলো, অডিটরিয়াম, মার্কেটের দোকান ভাড়া, পুকুর, খেয়াঘাট ও ফেরীঘাট ইজারা হতে প্রাপ্ত অর্থ জেলা পরিষদের নিজস্ব আয়ের উৎস।

     জেলা পরিষদ আইন-২০০০ অনুযায়ী জেলা পরিষদ মূলত দুই ধরনের কাজ সম্পাদন করে থাকে। একটি আবশ্যিক অন্যটি ঐচ্ছিক। আবশ্যিক কার্যাবলীর মধ্যে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, পুল/কালভার্ট নির্মাণ/মেরামত, আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। ঐচ্ছিক কার্যাবলীর মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজকল্যাণ, অর্থনৈতিক কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত ইত্যাদি কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে। বর্তমানে জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ড আগের তুলনায় আরো বহুগুণে বিস্তৃত হয়েছে। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ (কম্পিউটার, ড্রাইভিং, সেলাই, ব্লক, বুটিক, ইত্যাদি) প্রদান করা হয়ে থাকে যা বেকার যুবক/যুব মহিলাদের সাবলস্বী হতে সহায়তা করে।

   এছাড়াও জেলা পরিষদের মাধ্যমে

  • স্থানীয় অসহায়, দু:স্থ্য, গরীব লোকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
  • প্রতি অর্থ বছর জেলার গরীব ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের এককালীন শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
  • বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে দু:স্থ্যদের মাঝে জেলা পরিষদ হতে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
  • বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল সরবরাহ করা হয়।

     জেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরামের নাম “জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি”। জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি নিম্মবর্ণিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত।

চেয়ারম্যান/প্রশাসক, জেলা পরিষদ সভাপতি
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ সদস্য
উপ পরিচালক, স্থানীয় সরকার সদস্য
উপজেলা চেয়ারম্যান,( সকল) সদস্য
নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি সদস্য
নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সদস্য
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, (সকল) সদস্য
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্য
সহকারী প্রকৌশলী, জেলা পরিষদ সদস্য
১০ সচিব, জেলা পরিষদ সদস্য সচিব

 

      জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদনক্রমে জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। তাছাড়া সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্দেশনা ও পরিপত্র মোতাবেক জেলা পরিষদ তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

Top