Welcome to Zila Parishad, Noakhali, Phone : 0321 – 61510,   Fax : 0321-61848, Postal Code : 3800, Email : ceozpnoakhali@gmail.comBangladesh.

Introduction

জেলার পটভূমি

নোয়াখালী জেলার মর্যাদা পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক এদেশে জেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় থেকেই। ১৭৭২ সালে কোম্পানীর গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এদেশে প্রথম আধুনিক জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রচেষ্টা নেন। তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯টি জেলায় বিভক্ত করে প্রতি জেলায় একজন করে কালেক্টর নিয়োগ করেন। এ ১৯টি জেলার একটি ছিল কলিন্দা। এ জেলাটি গঠিত হয়েছিল মূলতঃ নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে। কিন্ত ১৭৭৩ সালে জেলা প্রথা প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রদেশ প্রথা প্রবর্তন করে জেলাগুলোকে করা হয় প্রদেশের অধীনস্থ অফিস।

১৭৮৭ সালে পুনরায় জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং এবার সমগ্র বাংলাদেশকে ১৪টি জেলায় ভাগ করা হয়। এ ১৪ টির মধ্যেও ভুলুয়া নামে নোয়াখালী অঞ্চলে একটি জেলা ছিল। পরে ১৭৯২ সালে ত্রিপুরা নামে একটি নতুন জেলা সৃষ্টি করে ভুলুয়াকে এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ১৮২১ সালে ভুলুয়া নামে নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চল ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল।

নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা গঠিত  হয়। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ন্তভূক্ত একটি বিশাল জেলা হিসেবে পরিচালনা হয়ে আসছিল। ১৯৮৩ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হলে লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা আলাদা হয়ে যায়। শুধুমাত্র নোয়াখালী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা পুনর্গঠিত হয়। তখন এ জেলায় উপজেলা ছিল ছয়টি। পরবর্তীতে আরো তিনটি উপজেলার সৃষ্টি করা হয়। এবং বর্তমানে জেলায় মোট উপজেলার সংখ্যা নয়টি। জেলার একটি বিশেষত্ব হলো আটটি উপজেলা মূল ভূখন্ডের সাথে রয়েছে। আর হাতিয়া নামক উপজেলাটির কিছু অংশ জেলার মূল  ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত থাকলে ও বৃহত্তর অংশ (মূল হাতিয়া) এর চর্তুদিকে মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা।

নোয়াখালী জেলার উত্তরে কুমিল্লা জেলা, দক্ষিণে মেঘনার মোহনা এবং বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফেনী এবং চট্টগ্রাম জেলা, পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর এবং ভোলা জেলা।

নোয়াখালী জেলা সদর বর্তমানে যে জায়গায় অবস্থিত সে জায়গায় প্রথম থেকেই ছিল না। ঘন ঘন নদী ভাঙ্গনের ফলে পঞ্চাশের দশকে জেলার সদরকে বর্তমান জায়াগায় স্থানান্তর করা হয়। এবং স্থান্তরিত জায়গায় (বর্তমান জেলা সদর) প্রয়োজনীয় স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। পূর্বেকার জেলা সদরটি নদী ভাঙ্গনের ফলে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। খূব অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে চর জেগে উঠে। বর্তমানে সেখানে নেই কোন লাল ইটের স্থাপনা, নেই কোন শহুরে যান্ত্রিকতা তার পরবর্তে রয়েছে দিগন্ত প্রসারিত সবুজ শ্যামল মাঠ।

সৌজন্যঃ জেলা প্রশাসন, নোয়াখালী

Top